ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী
জীবনী

ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী

আমার স্বপ্ন: সমৃদ্ধ উলিপুর

ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী — ছবি
আমার স্বপ্ন: সমৃদ্ধ উলিপুর

ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী

ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার আইনজীবী ও সমাজসেবক। তিনি কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। তিনি উলিপুর উন্নয়ন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।

শিক্ষা

স্নাতক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়; স্নাতকোত্তর, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়; ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, লিঙ্কনস ইন

পেশা

আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার আইনজীবী

ছাত্ররাজনীতি

সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

সাংগঠনিক দায়িত্ব

মেম্বার, ফরেন অ্যাফেয়ার্স টিম (ইউরোপ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

নির্বাচনী আসন

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর)

সমাজসেবা

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, উলিপুর উন্নয়ন ফোরাম

ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী: উলিপুরের এক অদম্য সংগ্রামের গল্প


বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী উলিপুর—একটি জনপদ যেখানে বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আজও মানুষের জীবনে স্থায়ী ছাপ রেখে যাচ্ছে। কাঁচা রাস্তা, অপ্রতুল বিদ্যুৎ, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি—এই বাস্তবতার মাঝেই প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের সংগ্রামী জীবন। এই জনপদেরই সন্তান ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছেন।


উলিপুরের এক ধর্মভীরু মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া সালেহী প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন কিশোরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং দাখিল পাস করেন সাত দরগাহ নেছারীয়া আলীয়া মাদ্রাসা থেকে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। যুক্তরাজ্যে গিয়ে লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স (BPTC) ও লিগ্যাল প্র্যাকটিস কোর্স (LPC), এবং লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ল সম্পন্ন করেন।


ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশ ও ইসলামের পক্ষে কাজ করতে যুক্ত হন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিক মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত হন, যার ফলে তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাধ্য হন। দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাস জীবন কাটালেও তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন। যুক্তরাজ্যের সংসদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থায় তাঁর বক্তব্য ও কার্যক্রম বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।


জুলাই গণবিপ্লবের সময় প্রবাস থেকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠিত করেন, রেমিট্যান্স বয়কটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন।


২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণবিপ্লবের পর দেশে ফিরে এসে তিনি 'সমৃদ্ধ উলিপুর' গড়ার লক্ষ্যে উলিপুর উন্নয়ন ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শিক্ষা প্রসার, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।


ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী বিশ্বাস করেন—“যেখানে মানুষ ন্যায় ও উন্নয়নের পক্ষে একত্রিত হয়, সেখানে উন্নয়ন অনিবার্য।” তাঁর স্বপ্ন একটি দারিদ্র্যমুক্ত, শিক্ষিত, দক্ষ, স্বাস্থ্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর উলিপুর, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।

আইনজীবী, সমাজকর্মী ও আন্তর্জাতিক বক্তা

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশ ও ইসলামের পক্ষে ভুমিকা রাখতে যোগ দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেন। এসময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের টার্গেটে পড়েন তিনি। তার নামে দেয়া হয় একাধিক মিথ্যা মামলা। যার ফলশ্রুতিতে তিনি মাস্টার্স দেশে করতে না পারায় স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স করতে বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রায় ১৬টি বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের জুলুমের শিকার হয়ে তিনি দেশে অবস্থান করতে পারেননি।

বিদেশে থাকাকালীন তিনি সুইডেন ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অভিবাসন আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করেছেন। শুধু একজন আইনজীবী হিসেবেই নয়, তিনি দুঃস্থের বন্ধু এবং নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বাইরে থেকেও তিনি বাংলাদেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা অনস্বীকার্য। যুক্তরাজ্যের সংসদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে তাঁর বক্তৃতা মানুষের অধিকার রক্ষায় এক উচ্চকিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিদেশ বিষয়ক টিম সদস্য হিসেবেও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের পক্ষে তিনি কাজ করে চলেছেন অবিরত।